ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
অ্যাটর্নি জেনারেল

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত রায় বিচার বিভাগের জন্য মাইলফলক

সংগৃহীত ছবি।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়কে বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা হওয়া দেশের বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে মামলার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। ফলে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং মামলাটি অযথা দীর্ঘসূত্রতায় পড়েনি।

তিনি জানান, বিচারিক আদালতের রায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও রেফারেন্স উচ্চ আদালতে পৌঁছানোর পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এ সময় তিনি বলেন, আলোচিত এ মামলাটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

মৃত্যুদণ্ড দুই আসামির

এর আগে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালতের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

কঠোর নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণ

রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।

১৯ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে স্কুলপড়ুয়া শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচারের দাবি ওঠে।

শিশুটির বাবা পরদিন পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ গঠনের পর স্বল্প সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হত্যা, তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং রায়—সব মিলিয়ে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে  জমি নিয়ে বিরোধ – বিবাদী পক্ষ কে আম পাড়া থেকে বিরত থাকার আদেশ

অ্যাটর্নি জেনারেল

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত রায় বিচার বিভাগের জন্য মাইলফলক

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়কে বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা হওয়া দেশের বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে মামলার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। ফলে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং মামলাটি অযথা দীর্ঘসূত্রতায় পড়েনি।

তিনি জানান, বিচারিক আদালতের রায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও রেফারেন্স উচ্চ আদালতে পৌঁছানোর পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এ সময় তিনি বলেন, আলোচিত এ মামলাটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

মৃত্যুদণ্ড দুই আসামির

এর আগে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালতের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

কঠোর নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণ

রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।

১৯ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে স্কুলপড়ুয়া শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচারের দাবি ওঠে।

শিশুটির বাবা পরদিন পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ গঠনের পর স্বল্প সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হত্যা, তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং রায়—সব মিলিয়ে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।