
বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার অগ্রগতির ভিত্তিতে সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সাবেক সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও রেড নোটিশ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তনুর ব্যবহৃত পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে একাধিক ব্যক্তির নমুনার উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মামলার তদন্তের স্বার্থে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং তার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনও তদন্তকারী সংস্থার হাতে পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।
তদন্ত সূত্র বলছে, আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারা অতীতে কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর তনুর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে মামলাটি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি।
প্রথমে থানা পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সিআইডি মামলাটির তদন্ত করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পিবিআই মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তনু হত্যা মামলার সর্বশেষ এই আদালতের আদেশকে মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

























