
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে ‘অশালীন নৃত্য-গান ও আনন্দ উৎসবে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) জেলা বিএনপি ও আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুল আলম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুর আলম মেম্বার।
এছাড়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আয়নাল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হক, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এবং ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিনহাজ হোসেনকে।
নোটিশপ্রাপ্তদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে বিএনপি বিভিন্ন দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও স্মরণ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু ওই দিন সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সোনামুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নৃত্য-গানসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন করা হয়, যা দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মনে করছে বিএনপি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের ব্যানার ও প্রচারণায় জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার নাম ব্যবহার করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বারীর নামও অতিথি তালিকায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলজার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী বিএনপির জন্য অত্যন্ত আবেগ ও শ্রদ্ধার দিন। এমন দিনে দলীয় কর্মসূচি উপেক্ষা করে কেউ যদি কনসার্ট, নৃত্য-গান কিংবা আনন্দ আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি বলেন, “সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর আক্কেলপুর ও জয়পুরহাটের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নেওয়া এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নেতাকর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শোকজপ্রাপ্ত নেতারা লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আরও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মরণ দিবসকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচির দিনে এমন বিতর্কিত ঘটনার কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে জেলা বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 


















