
দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন হাসপাতালের প্রায় ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসকরা বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, চিকিৎসা পেশায় যুক্ত নতুন চিকিৎসকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ আন্দোলন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবীশকাল (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ) বাতিল, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বয়সসীমা ৩৪ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত অন্যান্য দাবি।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর কর্মচাপ অনেক বেশি হলেও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে সীমিত। চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থেই তাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবাদান কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রাখা হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কর্মবিরতি চললে হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় নতুন করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির পথে হাঁটলেন তারা।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল প্রশাসন। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 























