
জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে নাটোরের লালপুরে। দিনের প্রখর রোদ, গরম বাতাস এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে জনজীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টায় লালপুর অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশ, যা গরমের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন জানান, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আপাতত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় গরমের প্রভাব কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র রোদে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কৃষিশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে রোদের মধ্যেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে অতিরিক্ত ঘাম, ক্লান্তি ও শারীরিক অবসাদে ভুগছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও গরমের তীব্রতা কমছে না। এতে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক পরিবারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎচালিত পাখা বা অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেও স্বস্তি মিলছে না।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরুজ্জামান শামীম বলেন, “অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে না যাওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, তরল খাবার গ্রহণ বাড়াতে হবে এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপদাহের সময় হালকা রঙের সুতি পোশাক পরা, রোদে বের হলে ছাতা বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখা এবং দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় অবস্থান এড়িয়ে চলা জরুরি।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে লালপুরের জনজীবনে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কমবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার ওপর। তবে আপাতত গরমের দাপট অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 


















