
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ভৈরব পৌর এলাকা। সংঘর্ষের জেরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং সাতটি ট্রেন আটকে পড়ায় ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পৌর শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকার তরুণদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি পরে রেলস্টেশন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ছড়িয়ে পড়লে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়সহ একাধিক কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে স্টেশনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা ও অবরোধের কারণে একের পর এক ট্রেন ভৈরব ও আশপাশের স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আটকে পড়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারোসিন্ধুর গোধূলি, নরসিংদী কমিউটার ট্রেন ও একটি মালবাহী ট্রেন। ভৈরব থানা ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এসআই সাইফুল, এসআই জহুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, সুলতান মাহমুদ, মিন্টু মিয়া, মাহমুদুল হাসান ও দাউদ নবী। গুরুতর আহত এসআই সাইফুল ও আরএনবি সদস্য মুছা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিভিন্ন স্টেশনে শত শত যাত্রী আটকা পড়ে থাকেন। অনেকে রাতভর অপেক্ষায় থাকেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ জানান, সংঘর্ষে স্টেশনের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 

















