ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
ধূমকেতু এক্সপ্রেসে ‘হেরোইনের রানী’!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের লিজা ঢাকাগামী ট্রেনে ২০ লাখ টাকার হেরোইনসহ আটক

আটক নারী লিজা তাবাসসুম (৩২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শেয়ালা গ্রামের আবুল বাশারের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইনসহ এক নারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে থানা পুলিশ। গভীর রাতে চলন্ত ট্রেনে পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২০০ গ্রাম হেরোইন। ঘটনাটি ঘিরে রেলপথে মাদক পাচারের ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে।
আটক নারী লিজা তাবাসসুম (৩২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শেয়ালা কলোনী  গ্রামের আবুল বাশারের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা অভিমুখী ধূমকেতু ট্রেনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ। এসময় ট্রেনের “চ” বগির ৩ নম্বর সিটে বসে থাকা সন্দেহভাজন যাত্রী লিজা তাবাসসুমের আচরণে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে দুইটি পৃথক পলিব্যাগে রাখা মোট ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০০ গ্রাম করে হেরোইন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। অভিযানের সময় আসামীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৩, তারিখ ২২/০৫/২০২৬। গ্রেপ্তারকৃত লিজা তাবাসসুমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়সাল বিন আহসান বলেন,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে আটক করা হয়। তার ব্যাগ থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে হেরোইন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে নারী পাচারকারীদের ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ চক্র। ফলে লিজা তাবাসসুম একাই এই বিপুল পরিমাণ হেরোইন বহন করছিলেন, নাকি এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে বড় কোনো মাদক সিন্ডিকেট— সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন নারী দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ভয়ংকর মাদক হেরোইন বহন করছিলেন- এমন তথ্য রীতিমতো উদ্বেগজনক। রেলপথকে নিরাপদ ভেবে মাদক কারবারিরা নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে, ধূমকেতু ট্রেনে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন- এই নারী কি কেবল ‘ক্যারিয়ার’, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধূমকেতু এক্সপ্রেসে ‘হেরোইনের রানী’!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের লিজা ঢাকাগামী ট্রেনে ২০ লাখ টাকার হেরোইনসহ আটক

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইনসহ এক নারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে থানা পুলিশ। গভীর রাতে চলন্ত ট্রেনে পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২০০ গ্রাম হেরোইন। ঘটনাটি ঘিরে রেলপথে মাদক পাচারের ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে।
আটক নারী লিজা তাবাসসুম (৩২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শেয়ালা কলোনী  গ্রামের আবুল বাশারের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা অভিমুখী ধূমকেতু ট্রেনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ। এসময় ট্রেনের “চ” বগির ৩ নম্বর সিটে বসে থাকা সন্দেহভাজন যাত্রী লিজা তাবাসসুমের আচরণে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে দুইটি পৃথক পলিব্যাগে রাখা মোট ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০০ গ্রাম করে হেরোইন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। অভিযানের সময় আসামীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৩, তারিখ ২২/০৫/২০২৬। গ্রেপ্তারকৃত লিজা তাবাসসুমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়সাল বিন আহসান বলেন,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে আটক করা হয়। তার ব্যাগ থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে হেরোইন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে নারী পাচারকারীদের ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ চক্র। ফলে লিজা তাবাসসুম একাই এই বিপুল পরিমাণ হেরোইন বহন করছিলেন, নাকি এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে বড় কোনো মাদক সিন্ডিকেট— সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন নারী দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ভয়ংকর মাদক হেরোইন বহন করছিলেন- এমন তথ্য রীতিমতো উদ্বেগজনক। রেলপথকে নিরাপদ ভেবে মাদক কারবারিরা নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে, ধূমকেতু ট্রেনে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন- এই নারী কি কেবল ‘ক্যারিয়ার’, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।