ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে মহিষ ও নামের বানান ভুল – বরখাস্ত জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর

শনিবার বিকেলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতীয় চিড়িয়াখানার আলোচিত অ্যালবিনো মহিষের নাম প্রদর্শন এবং সেই নামের বানান ভুলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে

সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (পশুপালন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হবে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

যদিও প্রজ্ঞাপনে অভিযোগের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রদর্শিত অ্যালবিনো মহিষটির নাম ও পরিচিতি ফলক ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কই এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ।

কী নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক?

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের পর মহিষটির পরিচিতি ফলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখা হয়। পরে সেই নামের বানানে ভুল করে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বানান বিভ্রাট নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা দ্রুত প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্নে রূপ নেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো রাষ্ট্রনেতার নাম প্রাণীর পরিচিতি বোর্ডে ব্যবহার করা কতটা উপযুক্ত।

উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায় আলোচনা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুধু বানান ভুল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নামে একটি প্রাণীর নাম সরকারি প্রদর্শনীতে বহাল রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আলোচনায় আসে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি কেবল একটি বানান ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন একটি নাম প্রদর্শন করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পুরো বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কোনো রাষ্ট্রনেতার নাম প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে সরকারি প্রদর্শনীতে উপস্থাপন এবং পরে সেই নামের ভুল বানান প্রকাশ পাওয়াকে যথাযথ মনে করা হয়নি।

কিউরেটর বদলির পর বরখাস্ত

এ ঘটনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক পৃথক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর পদ থেকে সরিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে সংযুক্ত করা হয়। তাঁকে লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (এলডিটি) রিজার্ভে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

একই আদেশে ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় আসা সেই অ্যালবিনো মহিষ

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে বিরল প্রজাতির প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের অ্যালবিনো মহিষটি। এর গোলাপি-সাদা বর্ণ, মাথার সামনের অংশে সোনালি চুল এবং ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠনের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাদৃশ্য টেনে এর নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

পরবর্তীতে মহিষটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রাণীটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সরকার প্রাণীটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় এবং পরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়।

নাম বদলে ‘সাদা মহিষ’

বিতর্কের মুখে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পরিচিতি ফলক পরিবর্তন করে। বর্তমানে মহিষটিকে ‘সাদা মহিষ’ নামে প্রদর্শন করা হচ্ছে। সংশোধিত ফলকে প্রাণীটির প্রজাতি, বৈশিষ্ট্য ও সংরক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।

তবে নাম পরিবর্তনের পরও বিতর্ক থামেনি। বরং পুরো ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য উপস্থাপনা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটি এখনও জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে মহিষ ও নামের বানান ভুল – বরখাস্ত জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর

প্রকাশের সময়ঃ ০২:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

জাতীয় চিড়িয়াখানার আলোচিত অ্যালবিনো মহিষের নাম প্রদর্শন এবং সেই নামের বানান ভুলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে

সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (পশুপালন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হবে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

যদিও প্রজ্ঞাপনে অভিযোগের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রদর্শিত অ্যালবিনো মহিষটির নাম ও পরিচিতি ফলক ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কই এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ।

কী নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক?

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের পর মহিষটির পরিচিতি ফলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখা হয়। পরে সেই নামের বানানে ভুল করে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বানান বিভ্রাট নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা দ্রুত প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্নে রূপ নেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো রাষ্ট্রনেতার নাম প্রাণীর পরিচিতি বোর্ডে ব্যবহার করা কতটা উপযুক্ত।

উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায় আলোচনা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুধু বানান ভুল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নামে একটি প্রাণীর নাম সরকারি প্রদর্শনীতে বহাল রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আলোচনায় আসে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি কেবল একটি বানান ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন একটি নাম প্রদর্শন করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পুরো বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কোনো রাষ্ট্রনেতার নাম প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে সরকারি প্রদর্শনীতে উপস্থাপন এবং পরে সেই নামের ভুল বানান প্রকাশ পাওয়াকে যথাযথ মনে করা হয়নি।

কিউরেটর বদলির পর বরখাস্ত

এ ঘটনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক পৃথক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর পদ থেকে সরিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে সংযুক্ত করা হয়। তাঁকে লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (এলডিটি) রিজার্ভে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

একই আদেশে ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় আসা সেই অ্যালবিনো মহিষ

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে বিরল প্রজাতির প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের অ্যালবিনো মহিষটি। এর গোলাপি-সাদা বর্ণ, মাথার সামনের অংশে সোনালি চুল এবং ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠনের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাদৃশ্য টেনে এর নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

পরবর্তীতে মহিষটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রাণীটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সরকার প্রাণীটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় এবং পরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়।

নাম বদলে ‘সাদা মহিষ’

বিতর্কের মুখে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পরিচিতি ফলক পরিবর্তন করে। বর্তমানে মহিষটিকে ‘সাদা মহিষ’ নামে প্রদর্শন করা হচ্ছে। সংশোধিত ফলকে প্রাণীটির প্রজাতি, বৈশিষ্ট্য ও সংরক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।

তবে নাম পরিবর্তনের পরও বিতর্ক থামেনি। বরং পুরো ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য উপস্থাপনা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটি এখনও জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।